প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারে ব্যালেন্স দেখার কোড কত? (জেনে নিন আমার অভিজ্ঞতায়)
বাসাবাড়িতে নতুন প্রিপেইড মিটার লাগানোর পর থেকেই সবারই একটা কমন ঝামেলা পোহাতে হয়। হঠাৎ দেখি ঘরে বিদ্যুৎ নেই, কিংবা মিটার থেকে অদ্ভুত বিপ বিপ শব্দ শুরু হয়ে গেছে। তখন মাথায় হাত পড়ে—আসলে মিটারে এখন কত টাকা ব্যালেন্স আছে? প্রথম প্রথম আমিও বেশ টেনশনে পড়ে যেতাম যে কীভাবে ব্যালেন্স চেক করব বা মিটার থেকে কিবোর্ডে কি চাপতে হবে। আপনিও যদি এই ঝামেলায় পড়ে থাকেন, তবে আজকের লেখাটি শুধু আপনার জন্যই। চলুন একদম সহজ ভাষায় শেয়ার করি প্রিপেইড মিটারে ব্যালেন্স দেখার আসল নিয়মটা।
সহজ কথায় সমাধান: সাধারণত আমাদের দেশের বেশিরভাগ প্রিপেইড মিটারে ব্যালেন্স চেক করার জন্য কিবোর্ডে চাপতে হয় 86 এবং এরপর এন্টার (Enter/Ok) বাটন প্রেস করতে হয়। তবে আপনার এলাকার বিদ্যুৎ কোম্পানি ভেদে কোডটি একটু এদিক-সেদিক হতে পারে।
কোম্পানিভেদে প্রিপেইড মিটারে ব্যালেন্স দেখার সঠিক কোড
আমরা জানি যে বাংলাদেশে একেক এলাকায় একেক কোম্পানি বিদ্যুৎ দিয়ে থাকে—যেমন পল্লি বিদ্যুৎ, ডেসকো, নেসকো কিংবা পিডিবি। তাই মিটারও একটু আলাদা ব্র্যান্ডের হয়ে থাকে। নিচে আমার জানা মতে বিভিন্ন মিটারের কোডগুলো গুছিয়ে দিলাম:
- পল্লি বিদ্যুৎ (REB) ও ডেসকো (DESCO): এই মিটারগুলোতে সাধারণত কিপ্যাডে 86 লিখে ডান পাশের লাল বা সবুজ এন্টার বাটনটি চাপলেই স্ক্রিনে টাকা ভেসে ওঠে। কিছু মিটারে আবার 07 বা 47 দিয়েও ট্রাই করতে পারেন।
- নেসকো (NESCO) ও পিডিবি (BPDB): এই মিটারগুলোতে ব্যালেন্স দেখতে চাইলে 801 অথবা অনেক সময় সরাসরি 00 প্রেস করে এন্টার দিতে হয়।
- অন্যান্য ডিজিটাল মিটার: কিছু নতুন মডেলে কোড না প্রেস করেই সরাসরি নীল রঙের 'ইনফো' বাটন বা স্টেপ বাটন কয়েকবার চাপলে টাকার পরিমাণ দেখা যায়।
মিটারে ব্যালেন্স চেক করার পুরো পদ্ধতি
বিষয়টি পানির মতো সোজা। আপনার ঘরের দেয়ালে ঝুলে থাকা মিটারের ছোট কিপ্যাডের দিকে তাকান। এবার নিচের কাজগুলো করুন:
১. আপনার মিটারের ছোট কিপ্যাড থেকে প্রথমে 86 (অথবা আপনার কোম্পানির নির্দিষ্ট কোডটি) তুলুন।
২. দেখবেন কিবোর্ডের স্ক্রিনে সংখ্যাগুলো উঠছে।
৩. এবার কিপ্যাডের নিচে থাকা তীর চিহ্ন, সবুজ বাটন বা Enter (এন্টার) বাটনে একটা চাপ দিন।
৪. ব্যস! সাথে সাথে আপনার মিটারের স্ক্রিনে দেখতে পাবেন কত টাকা ব্যালেন্স অবশিষ্ট আছে।
ব্যালেন্স ছাড়াও মিটারে আর কি কি তথ্য দেখা যায়? (জরুরি কিছু কোড)
আমি যখন প্রথম মিটার ঘাঁটঘাঁটি করি, তখন দেখলাম শুধু ব্যালেন্স না, আরও দারুণ কিছু দরকারি কোড রয়েছে যা আমাদের মাঝেমধ্যেই কাজে লাগে। যেমন:
- শেষ কত টাকা রিচার্জ করেছিলেন: সেটি দেখতে চাইলে 84 বা 85 চেপে এন্টার দিন।
- এই মাসে মোট কত বিদ্যুৎ খরচ হলো: আপনার খরচ হওয়া ইউনিট বা (kWh) দেখতে সাধারণত 03 বা 04 কোড ব্যবহার করা হয়।
- ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স বা লোন নেওয়া: মাঝরাতে হঠাৎ ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলে এবং রিচার্জ করার উপায় না থাকলে, কিছু মিটারে নির্দিষ্ট কোড (যেমন 888 বা নির্দিষ্ট বাটন হোল্ড করে) ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স নেওয়া যায়।
- ওভারলোড বা কারেন্ট স্ট্যাটাস: মিটারে অতিরিক্ত লোড চলছে কি না তা দেখতে 09 বা 11 কোড বেশ কাজে দেয়।
আমার কিছু ব্যক্তিগত পরামর্শ
অনেকের মনে ভয় কাজ করে—ভুল কোড চাপলে কি মিটার নষ্ট হয়ে যাবে বা লক হয়ে যাবে? ভাই, ভয়ের কিচ্ছু নেই! ভুল কোড চাপলে মিটার শুধু স্ক্রিনে 'Error' দেখাবে, কোনো ক্ষতি হবে না। তাছাড়া আপনার মিটারের গায়ে ছোট করে কোম্পানির নাম ও মডেল লেখা থাকে, প্রয়োজনে সেটি দেখেও কোড মিলিয়ে নিতে পারেন।
আশা করি আমার এই ছোট অভিজ্ঞতাটুকু আপনার উপকারে আসবে। প্রিপেইড মিটার নিয়ে আর কোনো কনফিউশন থাকলে কমেন্টে জানাতে পারেন, আর লেখাটি ভালো লাগলে পরিচিত কারও সাথে শেয়ার করে দিতে পারেন!
